184266

এখন কেন কাঁদছ, কাজে দেয়ার সময় মনে ছিল না?

দীর্ঘ ৫ বছর পর মা-বাবাকে পেয়ে বেজায় খুশি সুমি। তবে মা আঞ্জুয়ারা খাতুন সুমিকে বুকে জড়িয়ে ধরতেই মুখ ফিরিয়ে নেয় সে।

এ সময় সুমি তার মায়ের উদ্দেশে বলে, এখন কেন কাঁদছ। আমাকে কাজে দেয়ার সময় মনে ছিল না!

সোমবার রাতে পাবনার চাটমোহরে মারধর ও বাথরুমে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের পর এ কথা মাকে উদ্দেশ করে বলে গৃহকর্মী সুমি খাতুন (১৪) ।

এ ঘটনায় মা আঞ্জুয়ারা বাদী হয়ে মামলার করার পর পুলিশ অভিযুক্ত আবদুস সোবাহান বিচ্ছু ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে পৌর শহরের ছোট শালিকা মহল্লার (কালীনগর) বাসা থেকে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সুমি পার্শ্ববর্তী গুরুদাসপুর উপজেলার দড়ি হাঁসমারী গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে।

চাটমোহর থানার ওসি এসএম আহসান হাবীব যুগান্তরকে জানান, এ ঘটনায় গৃহকর্মী সুমির মা আঞ্জুয়ারা বাদী হয়ে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন, যার মামলা নং-৫। সুমিকে তার পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এদিকে খবর পেয়ে ঢাকা থেকে সোমবার রাতে মেয়ে সুমির কাছে আসেন বাবা শফিকুল ইসলাম ও মা আঞ্জুয়ারা খাতুন।
বারে বারে মূর্ছা যান মা আঞ্জুয়ারা ও বাবা শফিকুল।

তারা বিলাপ করে বলেন, আমরা মেয়ের সুখ খুঁজতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আজ সুখের বদলে আমার মেয়ের এই করুণ পরিণতি। আমরা এই নির্যাতনের ন্যায়বিচার চাই।

সুমির মা আঞ্জুয়ারা বলেন, ফেরদৌসী বেগম বারে বারে মোবাইলের মাধ্যমে মামলা না করার অনুরোধ জানান এবং টাকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলেন। কিন্তু আমার মেয়ের যে সর্বনাশ হয়েছে এমন যেন আর কেউ না হয়, এ জন্যই আমি মামলা করেছি। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এর আগে মানবাধিকার কমিশন চাটমোহর উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক কেএম বেলাল হোসেন, থানার ওসি তদন্ত মো. শরিফুল ইসলাম, থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল লতিফসহ অনেকেই সুমির শারীরিক খোঁজখবর নেন। এ সময় তারা সুমির মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং যাবতীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাটমোহর পৌর শহরের ছোট শালিকা মহল্লা থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় গৃহকর্মী সুমিকে উদ্ধার করে চাটমোহর থানা পুলিশ। পরে তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে আবদুস সোবাহান বিচ্ছুর বাসায় কাজ করত। তুচ্ছ ঘটনায় প্রায়ই বিচ্ছু ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম সুমিকে মারধর ও বাথরুমে বন্দি করে রাখত।

ad

পাঠকের মতামত