শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ ঠেকাতে ভক্তের আবেগঘণ খোলা চিঠি!
টালিউটের জনপ্রিয় জুটি শাবিক-অপুর বিচ্ছেদের গুঞ্জণ সত্যি হলো আজ। একটু আগে শাকিব খান নিজেই বলেছেন তিনি কলকাতা যাওয়ার আগেই তালাকনামায় সই করে অপুর কাছে পাঠাইছে আজ। কিন্তু এই ব্যাপারে অপুকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এখনো কিছু বলেননি। তবে আজ সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে অপুর ভেরিফাইড ফেসবুক ফ্যান পেইজে শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ ঠেকানোর জন্য চলচ্চিত্র পরিবারের অভিবাবকের উদ্দেশ্যে অপুর এক ভক্ত একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। তিনি সেখানে লিখেছেন, চলচিত্র পরিবার কি আজ অভিভাবকহীন? আজ বেশী মনে পড়ছে প্রয়াত নায়ক রাজ রাজ্জাককে ।
অপু বিশ্বাস ১০ই এপ্রিল আব্রাম খান জয়কে নিয়ে প্রথম লাইভে আসার পর যখন শাকিব অপুর মধ্যে দন্ধ চরম আকার ধারন করে, তখন নায়ক রাজ রাজ্জাক দ্ব্যার্থহীন ভাবে শাকিব খানকে বলেছেন, অপু বিশ্বাসকে মেনে নিতে, আর নিজের উদহারন দিয়ে বলেছিলেন, বিয়ে করলে যে ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়, তা সম্পূর্ন ভূল ধারণা।
এবং বলছিলেন, “অপু বিশ্বাসের প্রতি আমার সমর্থন সবসময় থাকবে”। কিন্তু আজ চলচিত্র শিল্পের মুরুব্বিরা একেবারে চুপচাপ, কারো কোন উদ্যেগ নেই এই জুটির মধ্যে সৃষ্ট ভূল বুঝাবুঝি নিরসনের। অথচ এই ইন্ডাস্ট্রীর জন্য বিগত দশ বৎসর এই জুটির যে অবদান ছিল তা তো অনিস্বীকার্য।
যৌথ প্রযোজনা নিয়ে শাকিব খান সহ মুষ্টিমেয় কিছু শিল্পীদের সাথে চলচিত্র পরিবারের একে অপরের মধ্যে যে কাঁদা ছুড়াছুড়িতে লিপ্ত হয়ে সৃষ্ট বিরোধ থেকে উভয়ের মধ্যে যে সম্পর্কের অবনতি ঘঠেছিল, তা ঠিকই পরবর্তীতে মুরুব্বীরা বসে ঠিকঠাক করে ফেলেছিল। শাকিব খানতো নতি স্বীকার করবে না বলেও সেই অনড় অবস্থান থেকে সরে আসে।
একবার তো সিনিয়র অভিনেতা জনাব আলমগীরের মাধ্যমে সমিতি অফিসে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে সবার সাথে সমঝোতা করেন, পরবর্তীতে আবারও সিনিয়র অভিনেতা ফারুক সাহেবের বাসায় গিয়েই হাসি মূখে সমঝোতা করেন। তাহলে যদি শাকিব খান ক্যারিয়ারের স্বার্থে চরম আকার ধারন করা সম্পর্কও মিটমাট করতে পারেন।
ক্যারিয়ারের জন্য যদি পরপর দুইবার উনার বিরোধী পক্ষের সাথে সমঝোতায় যেতে পারেন, তাহলে যার সাথে ৮বৎসর সুখের সংসার করল, তার সাথে সমঝোতা করতে বাধা কোথায়? যিনি তাঁর সন্তানকে আগলে রেখে লালন পালন করে যাচ্ছেন, এখনতো স্বামীর কথামত বলতে গেলে ক্যারিয়ার পর্যন্ত ছেড়ে দিলেন, স্বামীর মন রক্ষার্থে, স্বামী ও সংসারের জন্য এত কিছু ত্যাগ স্বীকার করলেন।
তারপরও কি বলবেন, স্ত্রীর সাথে বিরোধের দেয়াল কি সহকর্মীদের সাথে বিরোধের দেয়ালের চেয়ে বেশী উচু হয়ে গেল! নিজের স্ত্রী সন্তানের চেয়ে কি ক্যারিয়ার সহকর্মীদের মর্যাদা অনেক বেশী হয়ে গেল! আজ নিজ স্ত্রী সন্তানের জন্মদিনের চেয়ে সহকর্মীর জন্মদিনে উইশ গিফট করাটা অতি মূল্যবান হয়ে গেছে! হায় কি আফসুস! ক্যারিয়ার কি আমরন নিজের সাথেই থাকবে?
যখন অসুস্থ হয়ে বিছনায় পড়ে থাকবে তখন কি ক্যারিয়ার বা সহকর্মীরা নিজের সেবা সশ্রুষা করতে যাবে? আমরা তো এই পর্যন্ত অনেক শিল্পীকে দেখলাম, যখন অসুস্থ হয়ে তারা শয্যাশায়ী হয়, তখন একমাত্র অবলম্বন হয় সেই স্ত্রীই, তখনই বুঝা যাবে সবই মরিচিকা, এতদিন যারা ক্যারিয়ারের জন্য ভীড় করেছিল, সেই জান-পরান দেশী শিক্ষিত বা বিদেশী সহকর্মীদের আর কাছে পাওয়া যাচ্ছে না, তখনি সত্যিকার ভাবে বুঝা যাবে, কে আপন কে পর।
চলচিত্র শিল্পে বর্তমানে যারা মুরুব্বি আছেন, তারা যদি ইন্ডাজট্রির স্বার্থে এক পক্ষ আরেক পক্ষের সাথে ঝামেলা মিটমাট করার জন্য এক সাথে বসতে পারেন, তাহলে এই ইন্ডাজট্রিরই একটি গুরুত্বপূর্ন জুটির দাম্পত্য জীবনের সৃষ্ট ভূল বুঝাবুঝি নিরসনের জন্য এগিয়ে আসতে পারে না! অন্তত তাদের একটা ফুটফুটে অবুঝ শিশুর দিকে তাকিয়ে হলেও কি তাদের উভয়কে এক করে দেওয়া যায় না।
আমাদের বিশ্বাস, তাদের উভয়ের মুরুব্বিরা একটু এগিয়ে এসে যদি ঘরোয়া ভাবে বসে তাদের উভয়কে মিল করে দেন, তাতে তাদের সেই মান অভিমানের বরফ ইনশাআল্লাহ অবশ্যই গলবে। সবাই মিলে তাদেরকে একটু প্রেসার ক্রিয়েট করলে।




