যুদ্ধক্ষেত্রে না গিয়েই বছরে ১৬০০ ভারতীয় সেনার মৃত্যু
প্রতি বছরই ভারতের সেনাবাহিনীতে অন্তত ১,৬০০ জওয়ানের মৃত্যু হয়। কোনো যুদ্ধ বা সংঘর্ষ ছাড়াই এ মৃত্যু হয় সেনাদের।
ভারতের সেনাদের বিপুলসংখ্যক সদস্যের এ মৃত্যুর পেছনে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা বড় ভূমিকা রাখে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বলেন, গোলাগুলি ছাড়াই বছরে দু ব্যাটালিয়ন সেনার মৃত্যু ঘটছে। আত্মহত্যার ঘটনা বিশেষ উদ্বেগের কারণ। দুর্গম এলাকায় দীর্ঘ দিন থাকতে বাধ্য হয়ে সেনারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া, পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র বলে পরিচিত হিমালয়ের সিয়াচেন সীমান্তে পাহারার দায়িত্বে থাকা সেনারা প্রবল ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে যায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ও কাশ্মিরে জঙ্গীদের লড়াইতেও প্রাণহানি ঘটে বলে জানা যাচ্ছে।
কিভাবে মৃত্যু হয় এত সেনার? এ প্রসঙ্গে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় স্থল, বিমান ও নৌ সেনার অন্তত ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়। ১২০ জন আত্মহত্যা করেছেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কারণেও বেড়েছে মৃত্যু হার।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভারতীয় বিমান বাহিনী হারিয়েছে ৬,৫০০ কর্মীকে। কর্মকর্তারা মেনে নিয়েছেন, জওয়ানরা মানসিক বিপর্যস্ত থাকে, সেই কারণেই বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা। কর্মকর্তারা বলছেন, আত্মহত্যা রুখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আত্মহত্যা এড়ানো যাচ্ছে না।
২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন শাখা – আর্মি, নেভি ও এয়ার- মিলিয়ে প্রতি তিন দিনে গড়ে একজন সেনা আত্মহত্যা করেছেন। তবে, এদের বেশিরভাগ সেনাবাহিনীর সদস্য। ২০১৪ সাল থেকে দায়িত্বরত ৩৪৮ জন ভারতীয় সেনা আত্মহত্যা করে।
পরিসংখ্যানে প্রকাশ, সন্ত্রাস ও বিদ্রোহ কবলিত জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে যারা দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকে তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি।
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টের অগ্রবর্তী ঘাঁটিতে দায়িত্বপালনকারী এক কর্নেল বলেন, ‘দুর্গম ঘাঁটিতে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কারণে একজন সৈনিকের মন ও শরীরের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়। প্রশিক্ষণ ও জাতি সেবার চেতনা আমাদেরকে দায়িত্ব পালন করে যেতে বাধ্য করে ঠিকই, কিন্তু কখনো কখনো তা কঠিন হয়ে পড়ে। ’
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের কাশ্মির যুদ্ধে ১,১০৪ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ১৯৬২ সালে চীনের সঙ্গে যুদ্ধে ৩,২৫০ জন, ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩,২৬৪ জন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩,৮৪৩ জন, ১৯৮৭-তে শ্রীলঙ্কায় ১,১৫৭ জন ও ১৯৯৯-এ পাকিস্তানের সঙ্গে কাশ্মীর যুদ্ধে ৫২২ জন ভারতীয় সেনা মারা যায়। তবে কোনো যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়াই প্রতি বছর গড়ে ১,৬০০ সেনার মৃত্যু হয়।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ভয়েস অব আমেরিকা









