181863

দুর্দান্ত খেলে যাচ্ছেন কে এই আরিফুল?

স্পোর্টস ডেস্ক: শ্রীলঙ্কান স্টার মাহেলা জয়াবর্ধনে বদলে গেছে টাইটানস, বদলে গেছেন আরিফুল। গতকাল নিজের টানা সফলতার কারণ হিসেবে শ্রীলঙ্কান ওই কোচের অবদানের কথা জানান দিলেন। ২৫ বছর বয়সের আরিফুল তার ক্যারিয়ারে রয়েছে অনেক উত্থান-পতন। কিন্তু ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে অনেক পরিণত মনে হচ্ছে। এবং একই সাথে তার ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতাও চোখে পড়ার মতো।

বিপিএলে খেলার আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলা শেষ ম্যাচেও অপরাজিত সেঞ্চুরি রয়েছে তার। বিপিএলে এসে ব্যাটিংয়েরই তেমন সুযোগ পাননি প্রথমে। গতকাল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে জয়ের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ১৯ বলে করেন ৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। যার মধ্যে রয়েছে দু’টি ছক্কা ও চারটি চারের মার। মূলত শেষের দিকে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে নার্ভ শক্ত রেখে ওই ব্যাটিং করে দলকে নিয়ে যান তিনি জয়ের লক্ষ্যে।

ইনিংসে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। কিন্তু আরিফুলের ইনিংসেই ম্যাচটি জিততে পেরেছে বলে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা তিনিই পেয়েছেন। আরিফুল এর আগে ৩৪ ও ৪০ রানের দু’টি ইনিংস রয়েছে। কাল তিনি বলেন, ‘আসলে এর আগে আমি যেখানে ব্যাটিংটা করি সেখানে নেমে বড় ইনিংস খেলার মতো সুযোগ থাকে না। কখনো ৮ বা ৯ এ ব্যাটিংয়ে নামতে হয়। কালও ওই রান করেছেন ৮-এ নেমে। খুলনার এ ম্যাচে শেষ পাঁচ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৯ রান।

শেষ তিন ওভারে ৩৬। ওভারপ্রতি ১২ রান প্রয়োজন এমন ম্যাচ জেতা আসলেই ক্রেডিটের। টাইটানস সেটাই করেছে রাজশাহীর বিপক্ষে। ব্যাটিংয়ে আরিফের উন্নতি চোখে পড়ার মতো।

কারণটা নিজেই জানালেন। কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে আমাকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। আগে আমার ব্যালান্সড করতে সমস্যা হতো। সেটা কভার করে দিয়েছেন মাহেলা। এতেই ব্যাটিংয়ে এখন সাফল্য পাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘আসলে আমার ব্যাটিংয়ের ধরনটাই অ্যাটাকিং। এমন ব্যাটিং করতে আমার পছন্দ।’ তিন ভার্সনের মধ্যে শর্টার ভার্সনের ম্যাচই তার বেশি পছন্দ বলে জানান দিলেন। তিনি বলেন,‘আমার বেশি ভালো লাগে এ ভার্সন। কারণ এখানে শুরু থেকেই অ্যাটাকিং খেলার প্রয়োজনীয়তা থাকে।’

তার ব্যাটিংয়ের ধরন প্রসঙ্গে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদেরও অবদান রয়েছে। কারণ টাইটানসের এ অধিনায়ক বলেছেন যে, তুমি যেখানে ব্যাটিং করো, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ফিরবে। আমি সেটাই চেষ্টা করি।’

এবারের আসরে খুলনার তেমন হাকডাক না থাকলেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলগুলোর সঙ্গেই রয়েছে। সাত ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৯। দলের বিদেশী ক্রিকেটারদের সঙ্গে স্থানীয়রাও সমান পারফরম্যান্স করে চলাতেই সাফল্য। আরিফুল বলেন, ‘তার এ সফলতা এখন অব্যাহত রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবেন।’ যেহেতু সমস্যাটা মিটে গেছে তাতে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেছে তার। এ ম্যাচে প্রথম ব্যাটিং করে রাজশাহী সংগ্রহ করেছিল ১৬৬ রান ৮ উইকেটে। ডয়েন স্মিথের ৬২ রানের ইনিংসের পর মুশফিক মিডল অর্ডারে খেলেন ৫৫ রানের এক ইনিংস। এ ছাড়া জেমস ফ্রাংকলিন করেছিলেন ২৯ রান।

জবাবে খেলতে নেমে সূচনায় উইকেট হারালেও মাহমুদুল্লাহ দায়িত্বপূর্ণ এক ইনিংসের পর আরিফুল জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন দলকে। ম্যাচ শেষে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও প্রশংসা করেন আরিফুলের। ‘অসাধারণ খেলেছেন তিনি।’ রিয়াদ বলেন, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ের গভীরতা অনেক, সেটার এ ম্যাচে প্রমাণ মিললো। তবে ব্যাটিং নিয়ে আমাদের আরো কাজ করতে হবে।’

ad

পাঠকের মতামত