179603

২০০৮ সালের পক্ষে আ’লীগ, বিএনপি চায় ২০০১

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনের খসড়া তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মতামতের জন্য (ভেটিং) আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ দুই শতাধিক তকবির ( আবেদন) পড়েছে ইসিতে। নির্বাচন কমিশন সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, অনেক এমপি সীমান পুনর্নির্ধারণের জন্য তকবির নিয়ে স্বশরীরে ইসিতে হাজির হচ্ছেন। কেউ কেউ টাকা নিয়ে আসছেন বলেও আভিযোগ উঠেছে। বিএনপি সমর্থিতরা চাচ্ছে, ২০০১ সালে সংসদীয় আসনে যে সীমানা ছিল সেটি ফিরিয়ে আনতে। কারণ ২০০৮ সালে অধিকাংশ আসন পরিবর্তন করেছে ইসি। আওয়ামী লীগ চায় বর্তমান আসন (২০০৮)। বিএনপির অভিযোগ ২০০৮ সালে তাদের আসন গুলোকে ভেঙ্গে দলকে বিপদে ফেলানো হয়েছে। যে এলাকায় বিএনপির দুটি ছিটে ভাল সমর্থক ছিল, সেখানে ১টি করা হয়েছে। ফলে দলীয় একটি আসন কমে গেছে। আবার একই ছিটে বিএনপি সমর্থিত এলাকা অন্য আসনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক মারপ্যাচে ফেলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, তিন ডজন জেলার বর্তমান সংসদ সদস্য ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রায় দুই শতাধিক আবেদন পরেছে ইসিতে। এসব আবেদন ইসি আমলে নিবে না। কারণ বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত দুই আইনেই সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া চূড়ান্ত ভাবে প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন থেকেই আপত্তি ও মতামত জানানোর আহ্বান জানানো হয়। ওই সময় যেসব আবেদন পাওয়া যায় সেগুলো আমলে নেয়া হয় এবং গণশুনানি করে সীমানা পুনর্নির্ধারণের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।সুতরাং খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে যেসব আবেদন জমা পড়ছে সেগুলো বিবেচনায় নেয়ার তেমন কোনো সুযোগ নেই।

সীমান পুনর্নির্ধারণ নিয়ে সব থেকে বেশি আভিযোগ পরেছে বরিশাল বিভাগ থেকে। শুধু বরিশালের হিজলা-মুলাদি আসন থেকে প্রায় দেড় ডজন অভিযোগ জমা পরেছে। এছাড়া পিরোজপুর জেলার একটি আসন থেকে অভিযোগ এসেছে ডজন খানেক।

নির্বাচন কমিনের আসা আবেদনগুলো থেকে দেখা যায়, ২০০৮ সালের আগের অবস্থায় বরিশাল-৪ আসন ফিরিয়ে দিতে সিইসির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন বরিশালের হিজলা উপজেলা বড়জালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও হিজলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাওয়ানুর চৌধুরী।

তিনি বর্তমান বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসন পরিবর্তন করে আগের মতো হিজলা ও মুলাদী উপজেলা নিয়ে বরিশাল-৩ আসন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। একই ধরনের আবেদন করেছে হিজলা উপজেলার সাবেক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি সম্প্রতি ইসির সচিবকে একটি চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে কুমিল্লা-৯ আসন আগের মতো নির্ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, আমার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-৯ লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত।লাকসাম উপজেলার বাকই (উত্তর) ইউনিয়নটি নবগঠিত লালমাই উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ওই ইউনিয়নকে কুমিল্লা-১০ আসনে যুক্ত করে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাকি ইউনিয়নগুলো নিয়ে কুমিল্লা-৯ আসন নির্ধারণের অনুরোধ করছি।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে কুমিলা-৯ এবং সদর দক্ষিণ ও নাঙ্গলকোট উপজেলা নিয়ে কুমিলা-১০ গঠিত।

ফেনী-২ ও ৩ আসনের সীমানায় পরিবর্তন চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বরাবর চিঠি দিয়েছেন ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যাহ। চিঠিতে তিনি বলেন, ২০০১ সাল পর্যন্ত সোনাগাজী ও সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ফেনী-৩ আসন গঠিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের কিছু দিন আগে ফেনী-৩ আসনকে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়।

চিঠিতে ২০০৮ সালের আগের অবস্থা অর্থাৎ সোনাগাজী ও সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে ফেনী-৩ নির্বাচনী এলাকা গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে সদর উপজেলা নিয়ে ফেনী-২ এবং সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা নিয়ে ফেনী-৩ আসন গঠিত হয়েছে।

এসব বিষয়ে নির্বাচনক মিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বিডি টোয়েন্টিফোর লাইভ ডটকমকে বলেন, সীমানা পরিবর্তনের আবেদন এখনই কমিশন আমলে নেবে না। কারণ আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত ভাবে প্রকাশের পর অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ থাকে। তবে বর্তমানে যে অভিযোগ আসছে তা আমরা রেখে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, সীমানা বিন্যাস করার প্রয়োজন পড়বে আইনটি সংশোধন হয়ে সংসদে পাস হওয়ার পর। দেখা গেলো, কমিশনের পাঠানো আইনটি সরকার পাস করলো না তখন সীমানা বিন্যাস হবে প্রতীক হিসেবে অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য এবং প্রয়োজনের তাগিদে তাও স্বল্প পরিসরে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বলেন, ১/১১ কমিশনের সীমানা বিন্যাস মানুষের সুবিধার বদলে ভোগান্তি বাড়িয়েছিল। আমরা বিন্যাস করলে ২০০৮ সালের আগে পুরানো সীমানায় ফিরে যেতে কমিশনকে উদ্ধুদ্ধ করতাম। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে তাই বর্তমান কমিশনের উচিত হবে নবম জাতীয় সংসদের আগে পুর্নবন্টন হওয়া সীমানায় ব্যাপক পরিবর্তন এনে এর আগের সীমানায় ফিরে যাওয়া। যে কাজটি আমাদের কমিশন করে যেতে পারেন নি।

ইসির তথ্যমতে, সংসদীয় ৩০০ আসন নির্ধারণ করার পর ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। ২০০৮ সালে দায়িত্ব পালন করা এক-এগারো সিইসি ড. শামসুল হুদার কমিশন সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেন। সারাদেশের পার্বত্য ৩টি জেলা বাদে ২৯৭ আসনেই পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর মধ্যে ১৩৩টিতে পরিবর্তন আনা হয় বড় পরিসরে। এই ব্যাপক সীমানায় ভাংচুর ও তছনছ করার মাধ্যমে ঢাকায় আসন বাড়ে ৮টি, কমে জেলাতে আসন সংখ্যা। সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল ও ফরিদপুরে একটি করে আসন কমে।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *