179035

শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা : জরিমানার টাকায় মিষ্টি বিতরণ!

নাটোরের সিংড়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির পর গ্রাম্য বিচারে অভিযুক্ত আফসার আলী নামে সত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধের ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর ওই জরিমানার টাকায় কেনা মিষ্টি গ্রামবাসীদের মাঝে বিতরন করা হয়।

রোববার গভীর রাতে অভিযুক্তের জামাতা সেলিম হোসেনের ভগ্নিপতি হাসেন আলীর বাড়িতে গ্রাম্য সালিশে এই রফাদফার ঘটনা ঘটে।

এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর ইকবাল বাবু, গ্রাম প্রধান মতলেব আলী, ওয়াজেদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। তবে ওই ঘটনার পর অভিযুক্ত বৃদ্ধ আফছার আলীর বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার ভাগনাগরকান্দি গ্রামের ওই শিশু শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। ২৯ অক্টোবর দুপুরে সে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথে প্রতিবেশী বৃদ্ধ আফছার আলী (৭০) শিশু শিক্ষার্থীকে ফুসলিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। তাকে বাড়ির একটি ঘরে নিয়ে মুখ চেপে ধরে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে।

এ সময় শিশুটির চিৎকারে তার ফুফু মজিদা বেগমসহ গ্রামবাসী ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় আফছারকে হাতেনাতে ধরে ফেলে তারা। খবর পেয়ে অভিযুক্তের ছেলে সোহেল ও জামাতা সেলিম এসে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

পরে রাতেই অভিযুক্তের জামাতা সেলিমের নিকটাত্মীয় হাসেন আলীর বাড়িতে শালিস বসায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর ইকবাল বাবু’র উপস্থিতিতে ওই শালিস বৈঠকে আফছারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে তাকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং আফসার আলীকে জুতার মালা পড়িয়ে গ্রাম ঘোরানো হয়। পরে জরিমানার টাকায় গ্রামবাসীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

শিশু শিক্ষার্থীর বাবা আতা মিয়া ও মা আকলিমা বেগম বলেন, তাদের শিশু কন্যাকে দাদির কাছে রেখে তারা দুইজনই নাটোর শহরের একটি ধানের চাতালে শ্রমিকের কাজ করেন। দাদির কাছেই থেকে তাদের মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন এবং জোড় করে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে।

স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুহিন উদ্দিন বলেন, ২৯ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি চলে যায়। এর পর থেকেই গত ৩দিন সে আর স্কুলে আসে নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর ইকবাল বাবু বলেন, বৃদ্ধ আফছার মেয়েটিকে খারাপ কাজ করা চেষ্টা করে। পরে সামাজিক ভাবে এটা মিমাংসা করা হয়েছে। শালিসে অভিযুক্তকে জুতা মালা পড়িয়ে গ্রাম ঘুরানো হয়েছে। অভিযুক্তক আফসার আলীকে তাবলীগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর শালিসী বৈঠক গ্রাম প্রধানদের সম্বনয়ে ৯ সদস্য বোর্ড এর প্রধান মতলেব আলী এই রায় দেন ।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, আফছার আলীর বিরুদ্ধে এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রাম্য সালিশের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ

 

 

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *