173815

কলিজা ভুনা নেই শুনেই কাঁদতে শুরু করেন অভিনেত্রী বাঁধন

বিনোদন ডেস্ক: সন্তান যত বড়ই হোক, মায়ের কাছে সে সব সময় সেই ছোট্ট আদরের রয়ে যায়। বাঁধন আজ নামি অভিনেত্রী। কিন্তু মায়ের কাছে সে আজও তার আদরের মেয়ে। ঈদ আয়োজনে মা চামেলী হকের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম মেয়ে বাঁধনের পছন্দ-অপছন্দ এবং ছোটবেলার ঈদ নিয়ে। পাঠক, মায়ের মুখ থেকেই শুনুন মেয়ের ছোটবেলার ঈদ-আনন্দের কথা।

বাঁধনের আব্বু বুয়েটের স্টুডেন্ট ছিলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। এরপর স্কলারশিপ পেয়ে চলে যান আমস্টারডামে। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। বাঁধন বড়। বাঁধনের তখন চার বছর বয়স, আমি ওদের দুই ভাইবোনকে নিয়ে চলে গেলাম নেদারল্যান্ডস। তার কিছুদিন পরেই ঈদ। ঈদের কথা মাথায় রেখে আমি বাসা থেকে পোলাওয়ের চাল সঙ্গে নিয়েছিলাম। আর নতুন জামাকাপড় কিনেছিলাম ঢাকা থেকেই।

ঈদ উপলক্ষে ওখানে যারা বাংলা ভাষাভাষি ছিল তাদের বাসায় দাওয়াত দেওয়া হলো। নেদারল্যান্ডসে গরুর মাংস পাওয়া যেত না। ওর বাবার এক বন্ধু ছিল ডাক্তার। তার গাড়িতে গিয়ে জার্মানি থেকে গরুর মাংস কিনে আনা হলো। তার গাড়িতে যাওয়ার কারণ, যেহেতু সে ডাক্তার, তাই যাতায়াতে তিনি সুবিধা পেতেন। দুই ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়েই গিয়েছিলাম।

 

ঈদে গরুর কলিজা ভুনা করা আমাদের পরিবারে রীতিতে পরিণত হয়েছিল। অবশ্য এর ফল আমি পরে পেয়েছি। যাই হোক, ঈদের দিন সব লোকজন বাসায় এসেছিল- আমরা বেশ আনন্দ করে বিদেশের মাটিতে ঈদ করেছিলাম।

বাংলাদেশে চলে আসার পর ঈদে হয় পুরান ঢাকায় থাকতাম, না হলে বাঁধনের দাদুর বাড়ি যেতাম। ঈদে বাঁধন সবসময় চাচীর হাতের গরুর কলিজা ভুনা খেতে চাইত। বাঁধনের বিয়ের পর ও একবার ঈদে টাঙ্গাইল ছিল। সেবার আমাদের সাথে দাদু বাড়ি যেতে পারেনি। ফোনে কথা হলো। বলল, আমরা যেন গরুর কলিজা ভুনা ওর জন্য নিয়ে আসি। নিয়েও এসেছিলাম। বাসায় ঈদের দিন অনেক মেহমান এসেছিল ফলে শেষ হয়ে গিয়েছিল। ও দুই-তিন দিন পর ফোনে জানতে চাইল, কলিজা ভুনা আছে কি নেই? বললাম, নেই। এত বড় মেয়ে অথচ শুনেই কান্না শুরু করে দিল। ওর অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল, আমরা মহা অন্যায় করে ফেলেছি!

আমার বাবার বাড়ি পুরোনো ঢাকায়। ঈদে নানু বাড়ি গেলে বাঁধন হাতে রাজ্য পেত। সালামি তুলতে সে দারুণ পটু ছিল। আমার ভাই-বোনের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করত সালামি তোলা। ও ছিল সবার বড়। নিজে বড় বড় একটা ভাব নিয়ে কথা বলত ওদের সাথে। সবার সাথে সালামি তুলবে তবে সবার সমান সালামি নেবে না- এই ছিল স্বভাব। সবার থেকে বেশি হতো তার সালামির অঙ্ক।

বাঁধন দূরন্ত ছিল। সাজ পোশাক পছন্দ করত। বিশেষ করে লাল পোশাক তার বেশি পছন্দ ছিল। ঈদে লাল পোশাক কিনে দিতে হতো। ও যত বড় হয়েছে মানসিক অনেক বড় চাপের মুখোমুখি হয়েছে। দেখলে মনে হয় হাসিখুশি, আসলে ভেতরে ভেতরে সব সময় কষ্ট পুষে রাখে। বলতে চায় না। নিজের যত সাধ এখন মেয়ের মধ্যে খোঁজে। আমি আমার মেয়ের হাসিখুশি ভরা মুখটা খুঁজি। এখন আগের মতো উচ্ছ্বাস নেই। সারাক্ষণ বাঁধনের মুখে মেয়ের নাম। কী করবে কী হবে- এই চিন্তায় অস্থির।

আমার মেয়ে ওর বাবার মতো মেধাবি। বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাস করল। কিন্তু প্র্যাকটিস করল না। অভিনয়ে যখন খুব ভালো করছিল বিয়ে-সংসার, সন্তান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় অভিনয়ের সাথে দুরত্ব বাড়ল। কিন্তু ওর স্বপ্ন অনুযায়ী ঘর পেল না।

ঈদ আসে। ওর পছন্দের খাবার রান্না করা হয়। নিজেই কিনে আনে প্রিয় রঙের পোশাক। হাসে। আমি দেখি আর মনে মনে বলি- আমার মেয়ের এই হাসি প্রকৃত হাসি তো?-রাইজিংবিডি।

ad

পাঠকের মতামত