রাজশাহীতে এক নারীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে

polis---রাজশাহীতে মোবাইলফোনে এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। নজরুল ইসলাম নামের ওই পুলিশ সদস্য নগরীর রাজপাড়া থানায় ওয়ারলেস অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন।

বুধবার নগরীর বহরমপুর এলাকার এক নারী তার বিরুদ্ধে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদর দফতরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী তার অভিযোগে বলেছেন, নির্যাতন করায় স্বামীর সঙ্গে বর্তমানে তার দ্বন্দ্ব চলছে। এ নিয়ে গত ১৪ জুলাই তিনি তার স্বামীর নামে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।

এ সময় থানায় কর্মরত ওয়ারলেস অপারেটর নজরুল ইসলাম নিজেকে একজন এসআই পরিচয় দিয়ে তার অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। এ সময় তিনি ওই নারীর মোবাইলফোন নম্বরও নেন।

এরপর থেকেই তিনি তার ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল নম্বর থেকে ওই নারীকে কল দিয়ে এবং এসএমএস দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছেন।

জানতে চাইলে শুক্রবার রাতে ওই নারী বলেন, এক মাস ধরে ওয়ারলেস অপারেটর নজরুল তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। কখনও সরাসরি ফোন করে আবার কখনও এসএমএস পাঠিয়ে। এতে তিনি অতিষ্ঠ। বাধ্য হয়ে তিনি আরএমপির কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, অভিযোগ দায়েরের পর বুধবার রাতে নজরুল তার বাড়িতে গিয়ে তাকে মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাকে অভিযোগ তুলে নিতে বলেছেন। এতে তিনি আতংকিত।

ওই নারী বলেন, ‘বিচার পাওয়ার জন্য পুলিশের কাছে গিয়েছি। আর মোবাইলের নম্বর নিয়ে পুলিশ সদস্য উত্ত্যক্ত করে যাচ্ছেন। আমরা নারীরা কার কাছে যাব? পুলিশ কেন এতো খারাপ হবে?’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে শুক্রবার রাতে রাজপাড়া থানার ওয়ারলেস অপারেটর নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইলফোনে কয়েকদফা ফোন দেয়া হলেও তিনি ধরেননি। তাই এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও রাজপাড়া থানা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে আরএমপির কমিশনার বর্তমানে ঢাকায় থাকায় অভিযোগের কপিটি তার কার্যালয় থেকে এখনো থানায় পাঠানো হয়নি।

সেটি পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। আর তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে ওয়ারলেস অপারেটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *