কারাগার থেকে বেরিয়েই ধর্ষণ করলেন ঢাকার ওই বিচারক

Raped-iজেল থেকে বেরিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ঢাকা জজ কোর্টের বিচারক জুয়েল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন এক নারী।

মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোরপূর্বক তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ঝালকাঠি নলছিটির ওই নারী। সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের ল রিপোর্টার্স ফোরামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে বিচারক জুয়েল রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি ষড়যন্ত্রের অংশ, এটার কোনো সত্যতা নেই। ওই নারী আমাদের অফিসে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো প্রকার মেলামেশা হয়নি। কিন্তু উনার অভিযোগটি আমি শুনেছি। যা একেবারেই ভিত্তিহীন। প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করলে সেটা ধরা পড়বে।’

কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে ওই নারীর দাবি, তাঁর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিচারক তাঁকে ধর্ষণ করেছেন এবং এ ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তাঁকে ধরিয়ে নিয়ে জেল খাটান ওই বিচারক।

সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী জানান, ২০১১ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর মোহরানার টাকার দাবিতে জজ কোর্টে মামলা করেন তিনি। কিন্তু ওই মামলা পরিচালনার আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁর। একপর্যায়ে এই অসহায়ত্বের সুযোগে তাঁকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের অফিসে চুক্তিভিত্তিক কাজ দেন ওই বিচারক।

ওই নারী আরো অভিযোগ করে বলেন, ২০১৫ সালের ০৮ জুন স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিজের বাসায় নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন বিচার জুয়েল রানা। ধর্ষণের পর ওই নারী অসুস্থ হয়ে গেলে তাঁকে চিকিৎসাও করান ওই বিচারক।

পরে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে জুয়েল রানার ইন্ধনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই নারীকে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে কোর্টে চালান করে দেয়। পরে গত বছরের ডিসেম্বরে জেল থেকে জামিন পেলেও ওই বিচারকের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি বলে দাবি করেন ওই নারী।

সর্বশেষ গত জুলাই মাসে দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর ধর্ষণের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেন ওই নারী। তিনি আরো জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ওই বিচারকের বিরুদ্ধে তিনি খিলক্ষেত এলাকায় মামলা করতে গেলে, পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

উল্লেখ্য, জুয়েল রানার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কর্তব্যে গাফেলতি, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুলাই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি করা হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *