তুরস্কে ‘নজিরবিহীন’ সমাবেশ: মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনবেন এরদোয়ান

Turky_Recep_erdoganজনগণ ও পার্লামেন্ট চাইলে তিনি তুরস্কে আবার মৃত্যুদণ্ড বহাল করবেন বলে জানিয়েছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে তুরস্কের পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমি আগাম ঘোষণা দিচ্ছি, পার্লামেন্টর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করব। যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনের অনুসারীদের নির্মূল করা হবে। তাদের সাফ-সুতরো করা হবে।

রোববার তুরস্কের বৃহত্তম শগর ইস্তাম্বুলের ইয়েনিক্যাপি এলাকায় অভ্যুত্থানবিরোধী সর্বদলীয় ‘ডেমোক্র্যাসি ও মারটার্স’ সমাবেশে এই কথা বলেন। গত মাসে তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে এরদোয়ানের সমর্থনে লাখো জনতার ওই সমাবেশ হয়। সমাবেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।এতে অংশ নেওয়া জনতার মধ্যে ছিল বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা।

তুরস্কের ইতিহাসে এই প্রথম ক্ষমতাসীন জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টি, বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এবং ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) একই মঞ্চে উপস্থিত হলো। সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল হুলুসি আকার এবং তুরস্কের ধর্মীয় বিভাগের প্রধান মেহমেত গোরমেজও এতে উপস্থিত ছিলেন।

Milion_people_tury

“তারা বলে ইইউতে (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) কোনো মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই। হ্যাঁ, ঠিক আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে আছে, জাপানে আছে, চীনেও আছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই আছে। তাই তারা এটি অনুমোদন করবে।”-বলেন এরদোয়ান।

তিনি আরো বলেন, “১৯৮৪ সাল পর্যন্ত আমাদের দেশেও মৃত্যুদণ্ড ছিল। সার্বভৌমত্ব জনগণের উপর নির্ভর করে, তাই জনগণ যদি চায় আমি নিশ্চিত রাজনৈতিক দলগুলোও তা বাস্তবায়ন করবে।”

ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার জন্য গুলেনকে দায়ী করে আসছে তুরস্ক। তবে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন গুলেন। গুলেনকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করার দাবি করেছে আঙ্কারা। তবে তুরস্কের অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোয়ান বলেন, ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থান ছিল দেশটির শত্রুদের জন্য একটি বড় আঘাত। জনগণের ঐক্য শত্রুদের হতাশ করেছে। শত্রুরা চেয়েছিল তুরস্কের পতন। কিন্তু তা হয়নি। এক জাতি, এক পতাকা, একটি মাতৃভূমি, একটি রাষ্ট্র এবং একক শক্তি হয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হব। তুরস্ক এখন ভবিষ্যতের সংহতির পথে রয়েছে।

পিকেকের জঙ্গিদের ভিডিওর মাধ্যমে তাদের বক্তব্য প্রচার করতে দেয়ায় জার্মানির সমালোচনা করে বলেন, ‘গণতন্ত্র কোথায়?’ তারা তো সন্ত্রাসীদের লালন করছে। এই সন্ত্রাসীরাই তাদের প্রত্যাঘাত করবে।

ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দল সিএইচপি’র প্রধান কামাল খেলেচদারওলো বলেন, তুর্কি জনগণ, পার্লামেন্ট এবং এই স্কয়ারে জড়ো হওয়া মানুষেরা গর্বের সঙ্গে গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। এতে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। আজ অভ্যুত্থান এবং স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন, মানুষের কথা শোনার দিন। সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে আমরা আজ ইতিহাস সৃষ্টি করলাম।

সিএইচপি প্রধান বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে সমর্থন করি। এদেশে বহুবার সেনাবাহিনীর অভ্যুথান হয়েছে। যার জন্য মূল্য দিতে হয়েছে পুরো তুরস্ককে।

সমাবেশের শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয় পুলিশের ১৩ হাজার সদস্য। এ ছাড়া সমাবেশ নির্বিঘ্ন করতে নিয়োজিত আছে হেলিকপ্টার, অ্যাম্বুলেন্স এবং ৭০০ চিকিৎসা কর্মকর্তা।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *