জি বাংলা, স্টার প্লাস ও জলসা বন্ধের সিদ্ধান্ত আজ

Zee-Bangla-Star-Jalsa-Star-Plusস্টার প্লাস, স্টার জলসা ও জি বাংলায় প্রচারিত অনুষ্ঠান দেখে বাংলাদেশে শিশু-কিশোরী ও নারীদের আত্মহত্যা, পরকীয়া, তালাক এবং সংসার ভাঙার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে করা একটি রিটের শুনানি শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার।

বিচারপিত মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠতি হাইর্কোট বেঞ্চে মামলাটি শুনানরি জন্য রাখা হয়েছে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া।

বিষয়টি নিয়ে ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সৈয়দা শাহীন আরা লাইলি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এতে তথ্য মন্ত্রণালয়রে সচবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, যাদু ব্রডব্যান্ডের মহাপরিচালক ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে বিবাদি করা হয়। সে সময় প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৯ অক্টোবর (২০১৪ সাল) ওই তিন ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত, যা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য উঠছে ২৬ জুলাই।

অভিযোগ আছে, ভারতীয় সাংস্কৃকিত আগ্রাসনের শিকার হয়ে এদেশের পারিবারিক বন্ধন আলগা হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে আত্মহত্যার মতো অপরাধপ্রবণতাও। কয়কে বছর আগইে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর বিভিন্ন সিরিয়ালের চরিত্রের নামে চালু হওয়া পোশাক কেনার জন্য অভিমানে আত্মহত্যাও করেছে কেউ কেউ। এছাড়া এই সিরিয়ালগুলো দেখতে না দেওয়ায় অভিমান করে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

গণণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ভারতীয় সরিয়িাল কিরণমালার নামানুসারে তৈরি জামা না পয়েে গত বছর আত্মহত্যা করেছে ৩ তরুণী। এরা হলো- মাদারীপুররে কালকিনির মনিরা (২৭), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জরে তাছলিম আক্তার (১২) ও বগুড়ার শেরপুরে সাবনিা খাতুন (১৪)।

এর আগে বোঝে না সে বোঝে না নাটকরে পাখি চরিত্রের নামে তৈরি জামা পেয়ে ২০১৪ সালে ঈদে আত্মহত্যা করে অন্তত ১০ জন। তারা হলো  নওগাঁর মমি আক্তার (১৪), গাইবান্ধার নূর জাহান (১০), দিনাজপুরের জেসমিন আরা (১৭), হবিগঞ্জের পাখি (১৩), চাঁপাইনবাবগঞ্জরে হালিমা (১২), ব্রাহ্মণবাড়য়িার ফুলমালা (১৫), চুয়াডাঙ্গার শিলা খাতুন (১৫) এবং রাজধানীর গুলশানের  জেরিনা ইসলাম বৃষ্টি (১৭)।

এছাড়া স্ত্রীকে পাখি জামা দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেন শেরপুরের শাহীন নামের এক যুবক। অন্যদকি, মেয়ের জামা সংগ্রহ করতে না পরেে আত্মহত্যা করেন কুষ্টিয়ার আলেয়া বেগম নামের এক গৃহবধূ। আর স্বামী পাখি জামা কিনে না দিতে পারায় স্বামীকে তালাক দিয়ে চলে যান খুলনার শারমিন আক্তার।

কিরণমালা দেখতে না পেরে আত্মহত্যার ঘটনাও আছে। ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার দড়ি রাজনগর গ্রামে ইমন আলী (৭) নামে এক শিশু গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

এছাড়া কিরণমালা দেখতে না পেরে আরও আত্মহত্যা করে সঞ্চিতা সাহা (২০) নামে অনার্স পড়ুয়া এক ছাত্রী। গত বছরের ২৭ আগস্ট আত্মহত্যা করা সঞ্চিতা সাহা নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াবাড়ির চিত্ত রঞ্জন সাহার মেয়ে। সে নীলফামারী সরকারী কলেজের অনার্স শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এর আগে কার্টুন ডোরেমন নিয়ে সমালোচনা হয় জাতীয় সংসদেও।

এসব বিষয়ে রিটকারীর আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া সোমবার বলেন, ভারতীয় এই তিন টিভি চ্যানেলের প্রভাবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অবক্ষয় হচ্ছে। এছাড়া ২০০৬ সালের কেবল টিভি নেটওয়ার্ক আইনের কিছু ধারা লঙঘনের মাধ্যমেও এসব টিভি চ্যানেল সম্প্রচার হচ্ছে, যা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এই আইনজীবী আরও বলেন, নেপাল সরকার ভারতীয় টিভি চ্যানেল তাদের দেশে প্রচার বন্ধ করেছে, সেক্ষেত্রে আমরা পারবো না কেন?

o ‘কিরণমালা’ দেখতে না পেরে আত্মহত্যা

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *