দেখানোর প্রবণতাই এখন বেশি: শম্পা রেজা

hampa-Rezaটিভি নাটকের বিশিষ্ট অভিনেত্রী শম্পা রেজা। যিনি দীর্ঘদিন ধরে এ অঙ্গনটির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমসাময়িক অনেকের মতো শম্পা রেজাও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন নিয়মিত। অভিনয়ের মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছেন এ অভিনেত্রী। শুধু অভিনয়ে নয়, তার পদচারণা উপস্থাপনা এবং গানেও। তবে এ মুহূর্তে নাটকেই ব্যস্ত রয়েছেন শম্পা রেজা। বর্তমানে ‘পরম্পরা’, ‘একঝাঁক মৃত জোনাকি’, ‘ফুল মহল’ সহ বেশকিছু ধারাবাহিক নাটকের কাজ করছেন তিনি।

ব্যস্ততা প্রসঙ্গে শম্পা রেজা বলেন, এখন তো আগের মতো কাজ করা হয়ে ওঠে না। তবে যে কয়টি সিরিয়ালে কাজ করছি বেশ ভালো লাগছে। গল্পগুলো নিখুঁতভাবে সাজানো। কাজ খুব উপভোগ করছি। আসলে কাজের মাধ্যমে আমি নিজেও আনন্দ পাই। অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করে। তাই অভিনয়টা নিয়মিত করার চেষ্টা করি। সামনে কোরবানির ঈদ। এ উপলক্ষেও বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করার কথা রয়েছে শম্পা রেজার। তবে এখনও সব চূড়ান্ত হয়নি বলেই জানান তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনাও করেন শম্পা রেজা। মাইটিভিতে ‘আমার গান’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন অনেকদিন। টিভিপর্দার পাশাপাশি শম্পা রেজা সরব রয়েছেন চলচ্চিত্রেও। কয়েক মাস আগে তার অভিনীত ‘সুইটহার্ট’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে গত বছর ‘হাছন রাজা’ ছবির কাজ শেষ করে রেখেছেন শম্পা রেজা। তবে এখনও সেটি মুক্তির মিছিলে যোগ দেয়নি। এ ছবিতে তিনি মিঠুন চক্রবর্তীর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

এ প্রসঙ্গে শম্পা রেজা বলেন, ছবিটির গল্প আসলে তাকে ঘিরেই। মিঠুনের সঙ্গে এই প্রথম কাজ করেছি। তিনি যে একজন উঁচু মানের অভিনেতা এ নিয়ে তো কোন সন্দেহ নেই।  সেসঙ্গে মানুষটাও খুবই চমৎকার। আমি সত্যিই মুগ্ধ তার সঙ্গে কাজ করে। টিভি মাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা শম্পা রেজার। তিনি যখন কাজ শুরু করেছিলেন তখনকার নাটকের মান এরকম ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। বদলেছে অনেক কিছু।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মান নিয়ে কিছু বলতে গেলে অনেক কথাই আসবে। শেষ হবে না। এখন আসলে চ্যানেল বেড়েছে। কাজের সংখ্যাও বেড়েছে সে তুলনায়। তবে মান প্রসঙ্গে আসলে বলব, কাজ ভালো হচ্ছে। আবার খারাপও হচ্ছে। দুটোর মিশেল। কিন্তু খারাপ কাজের সংখ্যাটা কমই বলবো। আর যে ভালো কাজগুলো হচ্ছে সেটা নানান কারণে খারাপের ভিড়ে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ হলো দর্শক।  তারা চ্যানেল বিমুখ হচ্ছেন। নাটকের গল্পের কারণে নয়। অতিমাত্রায় বিজ্ঞাপন প্রচারের ফলে। আর এসবের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে ভাল বাজেট নেই। যেখানে একটি নাটক তিন-চার দিন সময় লাগে করতে সেখানে দুই দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়। আর বাজেটের টাকা যে কত হাত ঘুরে আসে সেটার কোন ঠিক নেই। যে কারণে ভালো কাজ করতে গিয়েও অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।

সমস্যার কথা তো বললেন শম্পা রেজা। কিন্তু এর থেকে মুক্তির উপায় কি? কি করলে নাটকে সুদিন ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, আগেই বলেছি এসব সমস্যার কথা বললে রাতারাতি সমাধান আসবে না। এ নিয়ে গবেষনায় বসতে হবে। দর্শক কেন দেশীয় চ্যানেল না দেখে ভারতীয় চ্যানেলের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন। প্রত্যেকটা চ্যানেলের বসা উচিৎ। বাজেট সমস্যা ছাড়া আর কোথাও কোন খুঁত রয়েছে কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে। একটা কথা ঠিক যে, আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো সব একই ঘরানার। কয়েকটি নিউজ চ্যানেল, আর একটি গানের চ্যানেল হয়েছে ঠিকই। কিন্তু বাকি সব একই ধাঁচের। এক চ্যানেলেই নাটক, গান, নিউজ, নাচের অনুষ্ঠানের মিশ্রন। আপনি একবার কলকাতার চ্যানেলের দিকে নজর দিন। দেখবেন সিরিয়ালের চ্যানেল শুধু সিরিয়াল আর গানের চ্যানেলে শুধু গানই চলছে। ওদের সুষ্ঠু নিয়ম নীতি রয়েছে। যা আমাদের এখানে নেই। বিজ্ঞাপনের ওপর একটা নিয়ম দেখা যায় ওখানে। আর আমাদের এখানে এক্ষেত্রে কোন নিয়ম তো নেই এমনকি নিয়ন্ত্রণেরও বালাই নেই। আমি তো কলকাতায় পড়েছি। সেখানে একসময় আমাদের বিটিভির নাটক দেখার জন্য মানুষ বাড়ির ছাদের ওপর এ্যান্টেনা ব্যবহার করতো। আর এখন আমাদের দর্শকরা তাদের সিরিয়াল ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তাই বলছি, আগে টিভি চ্যানেলগুলোর একটা সুষ্ঠু নীতিমালা প্রয়োজন। যা করলে দর্শক ফেরানো সম্ভব হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নতুন শিল্পীর সম্পৃক্ততা ঘটেছে মিডিয়াতে।

বর্তমান সময়ের নবীন শিল্পীদের কেমন লাগছে শম্পা রেজার? জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুনদের বরাবরই ভাল লাগে। ট্যালেন্ট আছে অনেক। কিন্তু তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে না। তারাও সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছে না। অভিনয় বলুন আর নির্মাণ বলুন এগুলো যে একটা সাধনা সে জায়গাটা নষ্ট হয়ে গেছে। তারকাখ্যাতি  পাওয়ার তৃষ্ণা আর টিভি পর্দায় চেহারা দেখানোর  প্রবণতাই এখন বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সবাই নয়। যাদের ডেডিকেশন আছে তারা ভালো করছে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা উচিৎ-তাহলো, প্রচুর জানতে হবে। যে যেই পজিশনে আছে সে জায়গাটা সম্পর্কে ভাল করে পড়াশোনা থাকতে হবে। তাহলে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তাদের জন্য অপেক্ষা করবে বলেই আমার বিশ্বাস।

আরেকটা কথা- সবার স্ব স্ব অবস্থানে থেকে অনেক বেশি বিনয়ী হতে হবে।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *