334589

নেত্রকোনায় নৌকা ডু’বে মা’রা যাওয়া ১৭ জনই মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী

নেত্রকোনা: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পর্যটনকেন্দ্র ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত উচিতপুরের হাওরে ঘু’রতে এসে নৌকাডু’বিতে ১৭ জনের লা’শ উ’দ্ধার করা হয়েছে। নি’খোঁজ রয়েছে আরও একজন। বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মদনের উচিতপুরের সামনের হাওর গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকার মারকাজুস সুন্নাহ মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বুধবার সকালে নেত্রকোনার মদনের জামিয়া আজিজিয়া মঈনুল ইসলাম মাদরাসার আমন্ত্রণে বেড়াতে আসেন। দুপুরে দুই মাদরাসার অন্তত ৪৮ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী মদনের উচিতপুর এলাকায় হাওর ভ্রমণে যান। তারা একটি ট্রলারে (ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা) করে উচিতপুর থেকে গোবিন্দশ্রীর দিকে যাচ্ছিলেন।

পথে রাজালিকান্দা হাওরে হঠাৎ করে বাতাস ও ঢেউয়ের কারণে ট্রলারটি ডু’বে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা উ’দ্ধার ত’ৎপরতা চালায়। পরে স্থানীয় দমকল বাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উ’দ্ধার কার্যক্রম শেষ হয়। ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৭ জনের ম’রদে’হ উ’দ্ধার করা হয়। এর মধ্যে এক পরিবারের আটজন রয়েছেন।

তারা হলেন- ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫ নম্বর সিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের মারকাজুস সুন্নাহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মেয়াজ উদ্দিন (৪৫), তার বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান আসিফ (১৭), ছোট ছেলে মাহমুদুর রহমান (১৪), ভাগনে রেজাউল করিম (১৮), ভাতিজা মো. জুবায়ের হোসাইন (১৯) ও মো. মুজাহিদ মিয়া (১৪)। তারা সবাই মারকাজুস সুন্নাহ মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। মাহফুজুর রহমান মেয়াজ উদ্দিনের ভাতিজি লুবনা আক্তার (১০) ও জুলফা আক্তার (৭) ইসরাহুল বানাত মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী।

এছাড়া একই জেলার ইসা মিয়া (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৩০), হামিদুল ইসলাম (৩৫), আজাহারুল ইসলাম (৩৫), শফিকুর রহমান (৪০) ও তার ছেলে সামান (১০), ইসা মিয়ার ছেলে শামীম হাসান (১০), ফজর আলীর ছেলে মুজাহিদ (১৭) ও তালেব হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০)।

বেঁ’চে যাওয়া মাদরাসা শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, নৌকাটি হঠাৎ বাতাসে উ’ল্টে যায়। তিনি নৌকার ছাদ থেকে ঝাঁ’প দিয়ে সাঁতরাতে থাকি। একপর্যায়ে দু’র্বল হয়ে ডু’বে যেতে থাকি। এ সময় আমার শরীরের পাঞ্জাবি ছিঁ’ড়ে ফেলি। পরে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হই।

পুলিশ জানায়, প্রায় ৪৮ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। তাদের মধ্যে ১৭ জনের ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়েছে। একজন নি’খোঁজ রয়েছেন। বাকিদের জীবিত অব’স্থায় উ’দ্ধার করা হয়েছে। নি’খোঁজ ব্যক্তিকে উ’দ্ধার কার্যক্রম চলছে। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, মৃ’তদের পরিচয় শনাক্ত করে ম’রদে’হ হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রত্যেকের পরিবারকে দা’ফন বাবদ সাত হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *