192980

‘আইভীর বন্ধু সুফিয়ানের কোমরে পিস্তল ছিল কেন’

ডেস্ক রিপোর্ট : বুধবার নারায়ণগঞ্জের রাইফেলস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গত মঙ্গলবারের সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গী সুফিয়ানের কোমরে পিস্তল ছিল কেন, তা জানতে চেয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘আইভী যদি সেদিন প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনে কথাই হকারদের বলতে আসবেন, তবে তার প্রিয় বন্ধু সুফিয়ানের কোমরে পিস্তল ছিল কেন। পিস্তল নিয়ে আসবে কেন?’ এসময় সেদিনের একটি ছবি উঁচিয়ে ধরে তিনি বলেন, ‘সুফিয়ান, বিএনপির বিশাল ক্যাডার।’

ওইদিনের ঘটনা নিয়ে চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান এ প্রশ্ন তোলেন। আরেকটি ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে সুমন; পিস্তল দিয়ে গুলি করছে। কে এই সুমন? ক্যাডার অব বিএনপি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কিন্তু এই ছবি জোগাড় করিনি। এগুলো সাংবাদিকরাই জোগাড় করেছেন। আমি সেখান থেকে সংগ্রহ করেছি।’ ছবি তোলার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে শামীম ওসমান বলেন, ‘কেউ কেউ আইভী বনাম হকারদের ঝামেলাকে আইভী বলাম শামীম ওসমানের ঝগড়া বলে চালানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এটা শামীম ওসমান বনাম আইভীর লড়াই নয়। এটা হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের ঝামেলা ‘

আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় মেয়র আইভী বিএনপি-যুবদলের ক্যাডার পরিবেষ্টিত হয়ে চাষাঢ়ায় এসেছিলেন। সেই মিছিল থেকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে দেখলাম, মেয়র আইভীর সঙ্গে যুবদলের আহ্বায়ক একাধিক মামলার আসামি মাকসুদুল আলম খোরশেদ, বিএনপি ক্যাডার সুমন, যুবদলের ডাবল মার্ডারের আসামির স্ত্রী বিভা। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন তাদের ধরছে না। ওরা কার শেল্টারে থাকে?’ মেয়র আইভীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘কথায় কথায় প্রশাসনকে প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়, এই নাটক আমরা বুঝি।’

তিনি বলেন, ‘আমার রাজনীতি গরিব মানুষের। গরিব মানুষের পাশ ছিলাম, আছি, থাকবো। এটাই আমার সন্তুষ্টি।’

পিস্তল হাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবি আসা নিয়াজুলের প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ‘বলা হলো, নিয়াজুল শামীম ওসমানের কর্মী। না, নিয়াজুল আগে আমাদের কর্মী ছিলেন। তিনি এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। একটা মার্কেটের মালিক। তবে মার্কেটের মালিক হলেই যে সন্ত্রাসী হবে না– এমন কথাও নেই। কিন্তু কেন নিয়াজুলের ওপর হামলা হলো? তাকে ১০ মিনিট ধরে মারা হয়েছে। তিন দফায় মারা হয়েছে। চতুর্থ দফায় তিনি নিজেকে রক্ষার্থে পিস্তল বের করেছেন। অস্ত্রের লাইসেন্স তো দেওয়াই হয়েছে আত্মরক্ষার্থে।’

সাংসদ বলেন, ‘কে এই নিয়াজুল, তার ওপর এত ক্ষোভ কেন? এ প্রশ্নের উত্তর হলো, তিনি আওয়ামী লীগের সাহসী নেতা নজরুল ইসলাম সুইটের ছোট ভাই। যে সুইট বিএনপি শাসন আমলে খালেদা জিয়াকে কালো পতাকা দেখিয়েছিলেন। সেই ঘটনায় নিয়মিত মামলা করে সুইটকে জেলে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বের করে এনে র‌্যাব দিয়ে রাস্তার ওপর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সেদিন খোরশেদ গং, বিএনপি গং, তৈমুর গং প্রভাব বিস্তার করে সুইটকে হত্যা করেছে। নিয়াজুল তার ভাই হত্যার বিচার পাননি। বিচার না পেয়ে তাদের পরিবারের কেউ আর রাজনীতিতে নেই। আর এখন বলা হচ্ছে, তিনি নাকি আইভীকে মারতে সেখানে গিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘নিয়াজুলের বিষয়ে আমি ডিফেন্ড করতে চাই না। তিনি যদি অস্ত্র বের করে গুলি করে থাকেন, তা পরীক্ষা করা হোক। দোষী হলে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘বিএনপির খোরেশদ গংরা আইভীর কাঁধে ভর করে এখনও আমাদের মারবে–এখনও? এই আমলেও? এখনও মারবে, তখনও মারল? আমরা যারা কর্মী নিয়ে রাজনীতি করি, এই প্রশ্নের জবাব তাদের দিতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়া ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য চেষ্টা করছে বা প্রকৃত তথ্য না পেয়ে যতটুকু পেয়েছে তা দিয়ে নিউজ করেছে। আমি মনে করি সেটা প্রকৃত সত্য তথ্য নয়।’

শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘আমার কাছে উচ্ছেদ হওয়া হকাররা এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তখন আমি কিছু বলি নাই। সিটি মেয়রের কাজের দায় আমাদের ওপরেও পড়ে। কারণ, আমাদের মেয়রও দলীয় প্রার্থী। তার কাজের ভার আমাদের ওপরেও পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের পারমানেন্টলি বসার জন্য বলিনি। আমি বলেছি পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত তাদের বসতে দিন। এদের কিছু সময় দিন। তারা তাদের ঋণের টাকা উঠিয়ে আনুক।’

ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হন। এদিন দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, নগরীর সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সড়কের ফুটপাথগুলো হকারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন মেয়র আইভী। এই সিদ্ধান্তে হকাররা প্রতিবাদ জানালে তাদের সমর্থন জানান শামীম ওসমান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য রাখার ঘটনাও ঘটে। সবশেষ মেয়র আইভী নগরীর ফুটপাথ থেকে হকারদের উচ্ছেদের ঘোষণা দিলে তাদের আবারও ফুটপাথে বসানোর ঘোষণা দেন শামীম ওসমান। এর প্রতিবাদে নগর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে মেয়র আইভী তার নেতাকর্মীদের নিয়ে চাষাঢ়া এলাকায় আসেন। তারা মুক্তি জেনারেল হাসপাতালে সামনে এলে শামীম ওসমানের সমর্থক ও হকাররা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও গুলি ছোড়ে। উৎস: পূর্বপশ্চিম।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *