192695

টাকায় ফোন নম্বর পেয়ে পরকীয়া, অতঃপর…

টাকায় লেখা কুলসুম নাহারের ফোন নম্বর পেয়েছিলেন রুহুল আমিন। তারপর পরকীয়া। এর জের ধরে প্রেমিক রুহুল আমিনকে নিয়ে স্বামী মোশাররফকে হত্যা করেন স্ত্রী কুলসুম।

আজ মঙ্গলবার এ মামলায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার কুলসুম, তাঁর প্রেমিক রুহুল আমিনসহ তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তি হলেন পাবনার আতাইকুলা উপজেলার রানীনগর গ্রামের সোলেমান আলী (৪৫)। একই সঙ্গে তাঁদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

কুলসুম নাহার ওরফে বিউটি (৪৬) পাবনা সদর থানার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা আর রুহুল আমিনের (৪৭) বাড়ি রানীনগর গ্রামে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কুলসুসের স্বামী মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন মৃধাকে (৫০) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে শুধু উপস্থিত ছিলেন কুলসুম নাহার। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর গ্রেপ্তার হলেও জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। রায় ঘোষণার পর কুলসুমকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, টাকার নোটের ওপর মোবাইল নম্বর পেয়ে তিন সন্তানের মা কুলসুমের সঙ্গে কথা শুরু করেন রুহুল আমিন। পরে তাঁদের মধ্যে পরকীয়া গড়ে ওঠে। এক বছর ধরে চলা এ সম্পর্কের জেরে অনৈতিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। একপর্যায়ে ‘পথের কাঁটা’ মনে করে মোশাররফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন কুলসুম ও রুহুল আমিন। সে অনুযায়ী ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে রুহুল আমিন তাঁর বন্ধু সোলেমান আলীকে নিয়ে পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় মোশাররফের বাসায় যান। এরপর তাঁরা মোশাররফের ঘরে লুকিয়ে থাকেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফেরার পর মোশাররফকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন কুলসুম, রুহুল আমিন ও সোলেমান। এরপর গুম করতে বস্তার ভেতর লাশটি ঢোকানো হয়। কিন্তু প্রতিবেশীরা টের পেলে রুহুল আমিন ও সোলেমান পালিয়ে যান। ওই রাতেই মোশাররফের বাড়ি থেকে তাঁর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় কুলসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন থানায় হত্যা মামলা করা হয়। এ মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আইনজীবী বলেন, আসামি কুলসুম নাহার এক মাসের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। তাঁর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন আইনজীবী মাহমুদুর রহমান।
সূত্র: প্রথম আলো

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *