192035

টাকার জন্য স্ত্রীর গালে ইস্ত্রির ছ্যাঁকা

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা শাপলা বেগম স্বামীর সংসারে পা রেখেছিলেন সুদিনের প্রত্যাশায়। এরপর মাদকাসক্ত স্বামীকে নিয়ে দুঃস্বপ্নের ঘোরে পার হয়েছে দীর্ঘ এক যুগ। শাপলার স্বামী হাফিজ উদ্দিন বিয়ের পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় দুর্যোগ নেমে আসে সংসারে। ধকল সামলাতে ব্র্যাকের স্থানীয় কার্যালয়ে যোগ দেন কর্মী হিসেবে। তার উপার্জনেই টিকে আছে সংসার। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এমন দুর্দশাকে শাপলা নিয়তি বলেই মেনে নিয়েছেন। তবু নির্মমতা থেকে রেহাই পাননি তিনি। গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকায় কর্মজীবী এই নারীর মুখমণ্ডলের একাংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে গেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাপলা গতকাল শনিবার সমকালকে জানান, মাদক কেনার টাকা না দেওয়ায় গত মঙ্গলবার তার গালে গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দেয় স্বামী হাফিজ উদ্দিন। এর আগে তাকে ব্যাপক মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ শাপলার। বিয়ের পর থেকেই মুখ বুজে স্বামীর এমন পাশবিক নির্যাতন সয়েছেন বলেও দাবি করেন ব্র্যাকের এই মাঠকর্মী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুক্তাগাছা শহরের মনিরামবাড়ির হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ১২ বছর আগে একই উপজেলার নিমুরিয়া গ্রামের শাপলা বেগমের বিয়ে হয়। এর কিছুদিন পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে হাফিজ। এরই মধ্যে কন্যা সন্তানের মা হন শাপলা। দিনদিন পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। সংসার চালাতে ব্র্যাকে চাকরি নেন শাপলা। সেখান থেকে মাদক কেনার টাকা নিতে স্ত্রীকে নিত্যদিনই অমানবিক নির্যাতন করে আসছিল হাফিজ।

এ নিয়ে স্থানীয় সালিশে একাধিকবার বিচারও হয়েছে। তবু হাফিজকে শোধরানো যায়নি। গত মঙ্গলবার দাবি মোতাবেক টাকা না পেয়ে অফিস যাওয়ার পথে শাপলার গালে গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দেয় সে। শাপলার চিৎকারে সবাই ছুটে এলে হাফিজ পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী শাপলাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ক্ষত গভীর হওয়ায় সেরে উঠতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। চিকিৎসাধীন শাপলা কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাফিজের নির্যাতন মেনে নিয়েছেন এতদিন। এবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

মুক্তাগাছা থানার ওসি আলী আহম্মেদ মোল্লা জানান, এলাকাবাসীর কাছে অভিযোগ পেয়ে হাফিজকে ধরতে পুলিশি তৎপরতা চলছে। উৎস: সমকাল।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *