191467

যারা পর্ণ ভিডিও দেখেন! তাদের জন্য মারাত্মক ভয়ংকর সংবাদ!

নিয়মিত পর্ণ দেখার ফলে পুরুষের সেক্সুয়াল অর্গান এক সময় শুধুমাত্র পর্ণ দেখার সময়ই পুরোপুরি ইরেক্ট হয়, কিন্তু বাস্তবে যখন কোনো নারীর সাথে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সে অংশ নেয় তখন সেটা আর সেভাবে সাড়া দেয়না। কারন তার সেক্সুয়াল অর্গান পর্ণের মোহনীয় নারী শরীর, তাদের নানা কলা-কৌশল, আর্টিফিশল সাউন্ড এবং বিহেভিয়ার দেখে দেখে ব্রেইনের সাথে ওগুলোর যোগসূত্র তৈরি হয়ে গেছে। ফলে বাস্তবে এসেও তার এক্সপেক্টেশন যখন পর্ণে দেখা সেই মোহনীয় শরীর, ছলা-কলা, আর্টিফিশল শীৎকার এবং বিহেভিয়ার কে পায়না, তখন তার অনুভূতিতে সেই আনন্দ টা আর জাগেনা। এটাকে বলে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (ED) । তবে এটা যে শুধুমাত্র পুরুষদের ক্ষেত্রেই ঘটে তা নয়, মেয়েদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

–> অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দুজনের একজন হয়ত পর্ণে আসক্ত বা পর্ণ পছন্দ করে কিন্তু আরেকজন পর্ণ মোটেও পছন্দ করেনা বা আগ্রহ পায়না। সেক্ষেত্রে পর্ণ আসক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয় জনের কাছে রুচিহীন, হীনমন্য এবং চরিত্রহীন একজন মানুষ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।

–>মাত্রাতিরিক্ত পর্ণ দেখার ফলে পুরুষদের সাধারণ নারীদের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে। ফলে তারা পর্ণে দেখা নায়িকাদের মত আকর্ষনীয় দেহ এবং চেহারা কে বাস্তবের নারীদের সাথে মেলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পর্ণ এ ব্যবহৃত নারীদের সৌন্দর্য্য মূলত প্লাস্টিক সার্জারী, কড়া মেকাপ এবং এডিটিং এর অবদান। তাছাড়া পর্ণে তারা যে শীৎকার ধ্বনি দেয় এবং যে আচরণ গুলো করে সেগুলোও মূলত কৃত্তিম এবং ভিউয়ার কে স্টিম্যুলেট করার উদ্দেশ্যেই ওটা করে তারা। বাস্তবে জীবনে সেগুলোর সাথে মিল না পেয়ে পর্ণ আসক্তরা হতাশ হয়ে পড়ে। ওরা হয়ে পড়ে নিঃসঙ্গ এবং অসুখী।

–> নানা ধরণের পর্ণ দেখতে দেখতে এক সময় পুরুষ এবং নারী উভয়ের সেক্সুয়াল ইন্টারেস্ট এবং টেস্ট দুটোই চেঞ্জ হয়ে যায়। দেখা গেল পর্ণ দেখার আগে বা পর্ণ দেখার শুরুর দিকে একটা পুরুষ আকর্ষণীয় সৌষ্ঠবের কোনো মেয়েকে দেখলে সেক্সুয়ালি এ্যারাউজড হত, কিন্তু এখন সুপার সেক্সি কোনো মেয়েকে দেখেও তার মধ্যে কোনো ইন্টারেস্ট তৈরি হয়না। কারন তার রুচি এবং স্বাদ বদলে গেছে। সে এখন হয় গে পর্ণের দিকে ঝুকেছে, নয়ত চাইল্ড পর্ণ অথবা এ্যানিমাল পর্ণ…

–> মেয়েদের ক্ষেত্রেও সেইম ব্যাপার টি ঘটে। যে মেয়ে পর্ণ দেখার আগে বা পর্ণ দেখার শুরুর দিকে আকর্ষনীয় কোনো পুরুষ দেখলে সেক্স এ্যাপিল অনুভব করত, এখন সেটা আর হয়না। কারন তার স্বাদ এবং রুচিও বদলে গেছে। স্বাভাবিক সেক্সে এখন তার আগ্রহ তৈরি হয়না। তার এখন লাগবে নতুন স্বাদ, নতুন অভিজ্ঞতা। এভাবেই অনেক লেসবিয়ানের উত্থান শুরু হয়। অনেকে জন্ম থেকেই লেসবিয়ান থাকে, কিন্তু বিকৃত পর্ণ দেখা ও লেসবিয়ান এবং গে রেশিও বাড়ানোর পেছনে বেশি দায়ী। –>নিয়মিত পর্ণ দেখলে মাস্টারবেশন ও অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। অতিরিক্ত মাস্টারবেশনের ফলে অনেকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং পরবর্তীতে যৌন জীবনে নানা ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। মাস্টারবেশনের সময় মূলত তাড়াহুড়ো করা হয় বাই চান্স যদি কেউ দেখে ফেলে বা বুঝে ফেলে। এভাবে দ্রুত অর্গাজম প্রাপ্তি থেকে ব্রেইনের মধ্যে প্রোগ্রাম তৈরি হয়ে যায়। ব্রেইন ধরে নেয় এরপর থেকে যখন ই সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সে অংশ নেবে, দ্রুত অর্গাজম দিতে হবে।

তাই যারা মাত্রাতিরিক্ত মাস্টারবেশনে অভ্যস্ত, পরবর্তীতে কোনো নারীর সাথে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সে অংশ নেবার সময় ব্রেইন তখন তার সেক্সুয়াল অর্গান এবং ফিলিং সে কমান্ড দেয় দ্রুত অর্গাজম প্রাপ্তির জন্য। এর মূল কারন হল আমাদের মাসল মেমরি বা বডি মেমরি। এই বডি মেমরি বা মাসল মেমরি যদি না থাকত তাহলে কেউ ড্রাইভ করতে পারতোনা, গিটার বাজাতে পারতোনা, মার্শাল আর্ট-জুডো-কারাতে এগুলোতে দক্ষতা অর্জন করতে পারতোনা। মাসল মেমরির কারনেই মানুষ চিন্তা করার আগেই দৈহিক অভ্যস্ততার কারনে এগুলো করতে পারে। এটি রিফ্লেক্স এ্যাকশন হিসাবেও পরিচিত। মাস্টারবেশন করতে করতে আমাদের মাসলগুলোও দ্রুত নিঃশেষ হতে হবে এমন একটা টেনশন নিজের ভেতরে অটোম্যাটিক্যালি তৈরি করে নেয় এবং সেই একই প্রেশার স্ত্রীর সাথে মিলনের সময় ও কাজ করে। তবে দ্রুত নিঃশেষ হওয়ার মূল কারন শুধু এই রিফ্লেক্স এ্যাকশন বা বডি মেমরি নয়, আরো একটি বড় সড় কারন আছে। সেটি হল ম্যাডোনা/হোর কমপ্লেক্স ইস্যু। এই ম্যাডোনা/হোর কমপ্লেক্স ইস্যু নিয়ে লিখতে গেলে আরো একটি নোট লেখা যাবে। –

> পর্ণ এবং পর্ণগ্রাফি ড্রাগসের মতই ভয়ঙ্কর। ড্রাগ এ্যাডিকশন থেকে মুক্তি পাওয়া যেমন কঠিন, পর্ণ আসক্ত থেকে মুক্তি পাওয়াও তেমনি কঠিন এবং দুরূহ ব্যাপার। পর্ণ আসক্তির কারনে ফ্যামিলির সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়, পড়াশোনায় মনোযোগ বসেনা, নিজের প্রতি হীনমন্যতা তৈরি হয়। তাছাড়া রুচিশীল বন্ধু-বান্ধবদের কাছেও এটার কারনে হেয় হতে হয়। পর্ণ যারা দেখে, এদের মোবাইলের মেমরি কার্ড, ল্যাপটপ/কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে পর্ণ থাকে। অনেক সময় এগুলো পরিবারের/কাছের মানুষ/বন্ধুদের চোখে পড়ে যায়, ফলে এদের সামনে ব্যক্তি নিজেকে ছোট মনে করে।
পর্ণের কারনে আরো অনেক অনেক সামাজিক, মানসিক, শারীরিক এবং ব্যক্তিগত সমস্যা তৈরি হয় যা লিখতে গেলে আরো অনেক বড় পরিসর প্রয়োজন হবে।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *