191385

নারীদের মারার অধিকার পুরুষের আছে!

ডেস্ক রিপোর্ট : জনপ্রিয় ফরাসি অভিনেত্রী ক্যাথরিন দেনেউভে বলেছেন, নারীদের মারার অধিকার পুরুষদের আছে। ক্ষেত্রবিশেষে মারাও উচিত।

আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিনেত্রী ক্যাথরিন দেনেউভেসহ ফ্রান্সের ১০০ জন নারী ‘অতিনৈতিকতা’ প্রসঙ্গে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিটি গতকাল মঙ্গলবার ফ্রান্সের পত্রিকা লা মঁদে প্রকাশিত হয়েছে। ওই চিঠিতেই ক্যাথরিন এ মন্তব্য করেন।

৭৪ বছর বয়সী ক্যাথরিন দেনেউভে অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত অভিনেত্রী। ১৯৫৭ সালে শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনি শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

হলিউডের প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর সারা বিশ্বে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির ঘটনাগুলো সামনে চলে আসছে। যেসব নারী ও পুরুষ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ‘#মি টু’ দিয়ে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করছেন। নারীরা হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ যৌন হয়রানির বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, গিনেথ প্যালট্রো, নাতাশিয়া মালথে ও রোজ ম্যাকগোয়ানের মতো তারকারা রয়েছেন। যদিও হার্ভে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সম্মতি ছাড়া তিনি কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেননি।

ক্যাথরিন দেনেউভেসহ ফ্রান্সের ১০০ জন নারীর স্বাক্ষর করা ওই খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, অপরাধের জন্য পুরুষদের খুব লঘু শাস্তি দেওয়া হয়। যদি তাঁরা কর্মক্ষেত্রে কোনো নারীকে অপ্রত্যাশিতভাবে স্পর্শ করেন বা চুম্বন দেন, তাহলে তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে কর্মক্ষেত্র থেকে বের করে দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু কাউকে উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করাটা গণ্য করা হয় না। এ ছাড়া পুরুষেরা ভদ্রভাবে তা করে না। বিশ্বে এখন এ ধরনের একটি ‘অতিনৈতিকতা’ চালু হয়ে গেছে। আর এটাই মানুষের মানসিকতায় গেঁথে দেয় যে নারীরা ক্ষমতাহীন এবং সব সময় তাঁরাই এসবের শিকার হবেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা এই নারীবাদের ভেতরে নিজেরা নিজেদের স্বীকৃতি দিই না। এ কারণেই কেউ ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নেয়। যার কারণে পুরুষ ও যৌনতার প্রতি ঘৃণাবোধ সৃষ্টি হয়।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, চিঠিতে স্বাক্ষর করা ১০০ নারীর মধ্যে ক্যাথরিন দেনেউভে বেশ জনপ্রিয়। বাকিদের মধ্যে আছেন অভিনেত্রী ক্রিস্টিন বয়সন, সাংবাদিক এলিজাবেথ লেভি, ব্রিজিত লাহাইয়ে, লেখক ও সাময়িকী সম্পাদক ক্যাথরিন মিলেট। এ ছাড়া অন্যরা তেমন জনপ্রিয় নন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্যাথরিনদের এই খোলা চিঠি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আজ দেশটির ৩০ জন নারীবাদী ওই চিঠির বিরোধিতা করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই ওই চিঠির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জাগো নিউজ

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *