185530

পৃথিবীকে বাঁচাতে নাসার অভিনব পরিকল্পনা : ধেয়ে আসতে পারে বিশাল গ্রহাণু (ভিডিও)

১৯৫৪ সালের একটি বিকেল বেলার কথা। সেদিন অ্যান হজেস সচরাচর সময়কার মতই তার রুমের সোফার ওপরে ঘুমাচ্ছেন। প্রায় ১২:৪৫ এর দিকে কিছু একটা তার ঘরের ছাদ ভেঙ্গে সরাসরি তার পেটের পাশ দিয়ে সোফার ভেতরে ঢুকে যায়। এসময়ে তিনি সামান্য আহত হলেও তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি একটি গ্রহাণুর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়েও পৃথিবীর বুকে গ্রহাণুর আছড়ে পড়ার ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অন্তত ১৬৬টি ছোটবড় গ্রহাণু পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে, এবং আরও ৭০০টি পৃথিবীর অক্ষরেখার খুবই কাছাকাছিতে অবস্থান করছে।

যদিও পৃথিবীতে গ্রহাণুর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা নিতান্তই কম, তবুও এটির সম্ভাবনা তো আর উড়িয়ে দেওয়া যায় না! মেক্সিকোতে একটি বিশাল গ্রহাণু আছড়ে পড়ায় তো সকল ডায়নোসর বিলুপ্ত হয়ে যায়, এবং এরকম আকারের একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে আছড়ে পড়লে যে শুধু মানব সভ্যতা ক্ষতিগ্রস্থই হবে তা না- বিলুপ্ত হয়ে পড়ারও আশংকা করা হচ্ছে।

মানব সভ্যতার এই পরিণতির কথা মাথায় রেখে এটিকে এড়াতে ভিন্ন পরিকল্পনা করছে নাসা। নাসার বিজ্ঞানীরা বর্তমানে যেসকল গ্রহাণু পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে তা চিহ্নিত করছে, এবং এই গ্রহাণুগুলোর পথরেখা পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে।

নাসা এই তিনটি পরিকল্পনায় কাজ করছে-

১। একটি নভোযান তৈরি করা যা এই গ্রহাণুর দিকে পাঠানো হবে। এটি এই গ্রহাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটাবে এবং এটির গতিপথ পরিবর্তিত করে দিবে। নাসা জানিয়েছে, এই গ্রহাণুর পথরেখায় সামান্য়তম পরিবর্তন করা হলেও পৃথিবীতে এই সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব। তারা বর্তমানে ডার্ট (ডাবল এস্টোরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট) নামক একটি নভোযানে কাজ করছে যা ডিডিমুন নামক একটি দূরবর্তী গ্রহাণুতে পরীক্ষা চালাবে।

২। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে তারা একটি ‘গ্র্যাভিটি ট্র্যাক্টর’ নামক নভোযান ব্যবহার করে এই নভোযান এবং গ্রহাণুর মাঝে একটি মাধ্যাকর্ষণ তৈরি করে এটিকে পৃথিবী থেকে দূরে একটি জায়গায় টেনে নিয়ে যেতে পারবে।

৩। তৃতীয় পদ্ধতিতে একেবারে হলিউডের সিনেমার মত এই গ্রহাণুর দিকে একটি নভোযান পাঠানো যেটা শক্তিশালী লেজার রশ্মির সাহায্যে এই বিশাল গ্রহাণুর খণ্ডর আশে পাশের ছোট ছোট খণ্ডকে আলাদা করে দিয়ে এই গ্রহাণুর ভার কমিয়ে দিতে সক্ষম হবে। এই গ্রহাণুর ভার কমে যাওয়ায় এটি দিকপরিবর্তন করবে এবং পৃথিবীর থেকে দূরে সরে যাবে।

শুধুমাত্র একটি গ্রহাণু সরাসরি পৃথিবীতে আছড়ে পড়লেই যে ক্ষতিগ্রস্থ হবে তা না। যদি এই গ্রহাণু পৃথিবীর খুবই কাছাকাছি দিয়ে ঘেঁষে যায় তাহলেও মানবজাতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা আছে।

একটি লম্বায় ১০ মিটারের গ্রহাণু যদি পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে, তাহলে প্রায় এই সংঘর্ষের ফলে প্রায় ১০০ কিলোটন শক্তি উৎপন্ন হবে। যদি ১৫০ মিটারের একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে, তাহলে প্রায় ২৮৮ কিলোটন শক্তি উৎপন্ন হবে, যা আশেপাশের ৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সবকিছু ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণের ফলে ১৫ মেগাটন শক্তি উৎপন্ন হয়েছিল।

২০১৩ সালে রাশিয়ার চেলিয়াবিনের আকাশে প্রায় ১৭ মিটারের একটি গ্রহাণু বিস্ফোরিত হয়েছিল যার ফলে প্রায় ২৮০ কিলোটন শক্তি উৎপন্ন হয়েছিল যা আশেপাশের সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন সিনেটররা নাসার সঙ্গে একটি জরুরী বৈঠক ডেকেছিল এবং এবং তারা দাবি করেছিল যাতে ভবিষ্যতে এরকম সাম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো যায়। সূত্র : ভক্স নিউজ

 

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *