185317

বাড়িওয়ালার ছেলের কাণ্ড তরুণীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক তরুণীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বাড়ির মালিকের বখাটে ছেলে ওই তরুণীসহ একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে আহত করেছেন।

এ সময় বখাটে ওই যুবক ১১ মাসের একটি শিশুকেও মারধর করে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বাড়ির মালিকসহ অন্যরা তাদের ঘরে আটকে রাখে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার হয়ে থানা পুলিশের কাছে যায় ভুক্তভোগীরা।

 

রোববার সকালে ফতুল্লার পূর্ব দেলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভাড়াটিয়া বাসা থেকে উদ্ধার হয়ে তরুণীসহ পরিবারের লোকজন থানায় এসে বাড়ির মালিক ও তার বখাটে ছেলের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ করেন।

তরুণীর ভাবি রাবিয়া বেগম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া থানার কাউয়া গ্রামে। তারা অভাবের তাড়নায় গ্রামে বাড়ি থেকে নারায়ণগঞ্জে ছুটে আসেন। তার স্বামী গত ৭ মাস ধরে তাদের ছেড়ে অন্য স্থানে চলে যায়। দুই ননদ ও ১১ মাসের শিশু নিয়ে ফতুল্লার পূর্ব দেলপাড়া ফ্যান ফ্যাক্টরি সংলগ্ন আমজাদ হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে গত ৬ মাস ধরে বসবাস করছেন।

তার দুই ননদ গার্মেন্টে চাকরি করেন। তিনি বাসায় থেকে সংসার ও সন্তান দেখাশুনা করেন। আমজাদের বাসা ভাড়া নেয়ার পর হতে তার এক ননদের প্রতি কুদৃষ্টি দেন বাড়িওয়ালার বখাটে ছেলে মোরশেদ আলম। প্রায় সময় তার ননদকে কুপ্রস্তাব দেন বখাটে মোরশেদ আলম।

রাবিয়া বেগম বলেন, এ অবস্থায় আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ওই বাসা ছেড়ে অন্য বাসায় উঠার সিদ্ধান্ত নিই। বিষয়টি বাড়ির মালিককেও জানানো হয়। রোববার সকালে আমার ননদ বাথরুমে গেলে বখাটে মোরশেদ বাথরুমে গিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

ভয়ে সে চিৎকারে শুরু করে। আমি আর আমার বড় ননদ ছুটে এসে মোরশেদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে চাইলে সবাইকে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় আমার ১১ মাসের শিশু সায়মাকেও আঘাত করে মোরশেদ। পরে ঘটনাটি বাড়ির মালিক আমজাদ কাউকে কিছু না জানাতে বলে হুমকি দেন।

একপর্যায়ে আমাদের সবাইকে ঘরে তালা মেরে আটকে রাখে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার হয়ে থানায় ছুটে যাই বলে অভিযোগ করেন রাবিয়া বেগম।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই মাজেদ মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্যাতিত ভাড়াটিয়াদের অন্য বাড়িতে বসবাস করার জন্য বলা হয়েছে। তারা বাড়ির মালিকের বখাটে ছেলের হাত রক্ষা পেতে তাৎক্ষণিক অন্য বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান এসআই মাজেদ মিয়া।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *