184457

শাকিব-অপু ছাড়াও আরো আলোচিত ডিভোর্স বাংলা চলচ্চিত্রে

বিনোদন ডেস্ক : নভেম্বর থেকেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে শাকিব খান এবং অপু বিশ্বাসের সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। অবশেষে গুঞ্জনই সত্য হয়েছে। চিত্রনায়ক শাকিব খান তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ পাঠিয়েছেন। শাকিব খানের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে যদি তাদের মত পরিবর্তন না হয় তাহলে ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যাবে।

গত মাসে যখন ডিভোর্সের খবরটি মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরে তখন শাকিব এবং অপু দুজনেই এড়িয়ে গিয়েছিলেন বিষয়টি। মিডিয়ার সামনে কোনো বক্তব্য দেননি শাকিব। আর অপু বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন, ডিভোর্সের বিষয়টি পুরাপুরি গুজব। কিন্তু গুজবকে সত্যি প্রমাণ করে শাকিব খান অপুকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন এবং বেশ কিছু অভিযোগও তুলেছেন। শাকিবের অভিযোগ, আব্রাম খান জয়কে বাসার কাজের লোকের কাছে তালাবন্ধ করে রেখে অপু তার কথিত বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে ভারতে বেড়াতে গেছেন। এছাড়াও শাকিবের নির্দেশ অপু অমান্য করেন বলে তার অভিযোগ। তাই অপুর সঙ্গে সংসার করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন শাকিব খান।

শাকিব খান ও অপুকে নিয়ে আলোচনা শুরু অবশ্য বছরের শুরুর দিকে। ১০ এপ্রিল হঠাৎ করেই দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে হাটে হাড়ি ভাঙেন অপু। এই খবর প্রকাশের পর থেকেই শাকিব-অপুর নয় বছর আগে হওয়া বিয়ে, সন্তানের জন্ম, বুবলির সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন এবং বিবাহ বিচ্ছেদ– সব কিছুই আলোচিত বিষয়। চায়ের দোকানের আড্ডাতেও শাকিব-অপু। বাংলা চলচ্চিত্রে এখন সবচাইতে আলোচিত বিষয়: শাকিব-অপুর ডিভোর্স।

কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে শাকিব-অপুর ডিভোর্সই কি সবচেয়ে আলোচিত?

তারকাদের প্রেম, বিয়ে আর সংসারকে রীতিমতো তাসের ঘরের সঙ্গে তুলনা করা হয়। বেশ আয়োজন করে বিয়ে করেও ভেঙ্গে যাচ্ছে সংসার। গত কয়েক বছরে তারকাদের ডিভোর্সের খবর অনেক বেশি পাওয়া গেলেও চলচ্চিত্র জগতে এর আগেও বেশ কিছু আলোচিত ডিভোর্সের ঘটনা আছে। সেই তালিকায় সবার আগে উঠে আসে কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হান ও অভিনেত্রী সুমিতা দেবীর নাম। ১৯৬১ সালে চিত্রনায়িকা সুমিতা দেবীকে বিয়ে করেন জহির রায়হান। সেই সংসার টেকেনি। সেই সময়ের আলোচিত ডিভোর্সের ঘটনা ছিল সেটি। এরপর জহির রায়হানের সঙ্গে বিয়ে হয় সুচন্দার।

বাংলাদেশের কিংবদন্তী অভিনেত্রী ববিতার বিয়ে হয়েছিল ব্যবসায়ী ইফতেখারের সঙ্গে। সেই বিয়ে টিকেছিল মাত্র দুই বছর। এই দম্পতির একমাত্র ছেলে অনিককে নিয়ে ববিতা এখন একাই আছেন।

জনপ্রিয় নায়ক আলমগীর ও গীতিকার খোশনুর ঘর বেঁধেছিলেন। তাদের সংসারও ভেঙে যায়। পরে রুনা লায়লার সঙ্গে বিয়ে হয় আলমগীরের।

চলচ্চিত্র জগতের বিচ্ছেদের আরেকটি আলোচিত ঘটনা ছিল অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী ও সুবর্না মুস্তাফার ডিভোর্স।

চিত্রনায়ক জসিম প্রেম করে বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা সুচরিতাকে। পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী নাসরিনকে। আর সুচরিতা বিয়ে করেন প্রযোজক কে এম আর মঞ্জুরকে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা এফ কবির চৌধুরী ১৯৮২ সালে অঞ্জু ঘোষকে চলচ্চিত্র জগতে আনেন। একাধিক ব্যবসা সফল ছবি উপহার দেয়ার পরে এফ কবির চৌধুরীর সঙ্গেই প্রেম এবং বিয়ে হয় অঞ্জুর। তবে, সেই বিয়ে বিচ্ছেদে গড়ায়। অঞ্জু এখন কলকাতায়। একইভাবে বিচ্ছেদ ঘটেছিল পরিচালক আলমগীর কবির এবং অভিনেত্রী জয়শ্রীর।

আশির দশকে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’র মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন সোহেল চৌধুরী ও দিতি। আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘হীরামতি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই প্রেম গড়ায় বিয়েতে। তাদের ঘরে দুই সন্তানও জন্ম নেয়। কিন্তু নানা কারণে আশির দশকের শেষে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন চিত্র নায়িকা দিতিকে। কিন্তু বেশি দিন টিকেনি এই সংসারও।

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়িকা রোজি প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন চিত্রগ্রাহক, কাহিনীকার, চলচ্চিত্রকার আবদুস সামাদ কে। সেই বিয়ের পরিণতিও ভালো হয়নি। বিচ্ছেদের পরে পরিচালক মালেক আফসারিকে বিয়ে করেন রোজি।

বছর জুড়েই তারকা জুটির বিচ্ছেদের খবর আসতে থাকে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পুরো বিশ্বেই চলচ্চিত্র জগতে বিচ্ছেদের ঘটনা অনেক। ভালোবেসে বিয়ে করেও ব্যক্তিত্বের সংঘাত, মতের অমিল এবং আরও নানা কারণে টিকছে না তারকাদের সংসার। তবে ব্যতিক্রমও আছেন। এমন অনেক তারকা আছেন যারা সফলভাবে সারাটি জীবনে একে অপরের হাত ধরে কাটিয়ে দিয়েছেন। পর্দার মতো ব্যক্তি জীবনেও তারকারা সুখে থাকুক, সেটাই দর্শক ও ভক্তদের প্রত্যাশা।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *